• বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে হত্যার জন্য পুরস্কারের প্রস্তাব ইরানের

সবার আগে আন্তর্জাতিক : / ১৯ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬

ইরানের পার্লামেন্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামেন নেতানিয়াহুকে হত্যার জন্য পুরস্কার ঘোষণার একটি বিল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সময়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান।

যুক্তরাজ্যের দু টেলিগ্রাফ সংবাদ মাধ্যমের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনটি ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজির বরাত দিয়ে জানায়, “ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা ব্যবস্থা” শীর্ষক একটি বিল প্রস্তুত করা হচ্ছে। ওই বিল পাস হলে ট্রাম্প বা নেতানিয়াহুকে হত্যা করতে পারলে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে ৫ কোটি ইউরো পুরস্কার দেওয়ার বিধান আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।

ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, ফেব্রুয়ারিতে ইরানে চালানো যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনায় ট্রাম্প, নেতানিয়াহু এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দায়ী। তাই তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করছে তেহরান।

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের আরেক সদস্য মাহমুদ নাবাভিয়ান বলেন, খুব শিগগিরই পার্লামেন্টে এমন একটি প্রস্তাবে ভোট হবে, যেখানে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে হত্যায় সক্ষম ব্যক্তিদের পুরস্কৃত করার কথা বলা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বিরুদ্ধেও হুমকি রয়েছে এবং ইরানের ওপর নতুন করে হামলা হলে তার জবাব হবে ধ্বংসাত্মক।

তবে একই সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পর্দার আড়ালে শান্তি আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কয়েক দফা প্রস্তাব ও পাল্টা প্রস্তাব বিনিময় হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমায়েল বাঘেই বলেন, ইরান নিজেদের জবাব দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও নতুন পাল্টা প্রস্তাব এসেছে এবং আলোচনা এখনও চলছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব আগের অবস্থান থেকে খুব বেশি অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। ওই কর্মকর্তা বলেন, ওয়াশিংটন চায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিশেষভাবে আলোচনা হোক। তা না হলে পরিস্থিতি আবারও সামরিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার সময় তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে রাজি হয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে- ইরানকে যুদ্ধে ক্ষতিপূরণ না দেওয়া, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর, একটি মাত্র পারমাণবিক স্থাপনা সচল রাখা এবং যুদ্ধবিরতিকে চলমান আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করা।

অন্যদিকে ইরানও বেশ কিছু শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, বিশেষ করে লেবাননে সংঘাত থামানো, সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ অর্থ ছাড় করা, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব স্বীকৃতি দেওয়া।

ইরানের সাবেক রেভল্যুশনারি গার্ড কমান্ডার মহসিন রেজাই সতর্ক করে বলেছেন, ‘অবরোধ বা চাপ অব্যাহত থাকলে সেটি কার্যত যুদ্ধেরই ধারাবাহিকতা হবে।’

এদিকে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি দ্রুত শান্তিচুক্তিতে না আসে, তাহলে দেশটির কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

June 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031