সালমান শাহ হত্যা মামলার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করা বর্তমান যুগে খুব কঠিন হওয়ার কথা নয়, যদি আধুনিক ফরেনসিক সাইকোলজিক্যাল টুলস ও বৈজ্ঞানিক তদন্ত পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
এক্ষেত্রে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক টুল কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রথমত, মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল অভিযুক্ত বা গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাদের বক্তব্য অডিও ও ভিডিও আকারে রেকর্ড করা যেতে পারে। পরবর্তীতে সেই বক্তব্য Layered Voice Analysis (LVA) প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্লেষণ করলে বোঝা সম্ভব হয় ব্যক্তি কোন আবেগীয় অবস্থান থেকে কথা বলছেন এবং কোন প্রশ্ন বা বিষয়ের ক্ষেত্রে তার মধ্যে মানসিক চাপ (stress) বা অস্বস্তি দেখা দিচ্ছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে আরও নির্দিষ্ট ও লক্ষ্যভিত্তিক প্রশ্ন তৈরি করা যায়।
দ্বিতীয়ত, এসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে Polygraph Examination বা প্রচলিত ভাষায় লাই ডিটেকশন টেস্ট পরিচালনা করা যেতে পারে। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে সত্য গোপন করছেন কি না বা ঘটনাটির সঙ্গে তার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধানী তথ্য পাওয়া সম্ভব।
তৃতীয়ত, যদি কোনো ব্যক্তি জিজ্ঞাসাবাদে সহযোগিতা করতে না চান, তাহলে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ বা মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ নিয়ে Brain Mapping (BEOS/P300 Based Assessment) পরীক্ষা করা যেতে পারে। এই পরীক্ষায় মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক তরঙ্গ EEG বিশ্লেষণের মাধ্যমে নির্ণয়ের চেষ্টা করা হয় ব্যক্তি ঘটনাটির সঙ্গে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতামূলক সংযোগ রাখেন কি না।
ভারতের বিভিন্ন আদালত ও তদন্ত সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে এসব বৈজ্ঞানিক টুল ব্যবহার করে আসছে। যদিও এগুলোর ফলাফলকে সব ক্ষেত্রে একক ও চূড়ান্ত প্রমাণ ( Conclusive evidence) হিসেবে গণ্য করা হয় না, তবুও তদন্তকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে এবং নতুন তথ্য উদ্ঘাটনে ( supportive evidence) এগুলো গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশের বিচার ও তদন্ত ব্যবস্থায় এসব আধুনিক ফরেনসিক সাইকোলজিক্যাল টুলের ব্যবহার এখনো শুরু হয়নি।
লেখক: পিএইচডি গবেষক, ফরেনসিক সাইকোলজি, ন্যাশনাল ফরেনসিক সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটি, ভারত এবং পরিচালক, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ফরেনসিক সাইকোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেস (ForensicBD)