• শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নতুন ২ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত সরকারের খালেদা জিয়ার স্বাধীনতা পুরস্কার নিলেন জাইমা রহমান শূন্যপদ পূরণে ৫ বছরের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে যা বললেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী গণতন্ত্র ছাড়া বাংলাদেশের সমৃদ্ধি সম্ভব নয় : স্পিকার বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শুরু শুক্রবার মত-পথের পার্থক্য থাকতে পারে, তর্ক-বিতর্ক যেন শত্রুতায় রূপ না নেয় স্বাধীনতা পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ইরানে চার ইসরায়েলি ‘গুপ্তচর’ গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা পদক হস্তান্তর করবেন আজ ৪৮১ জন অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল শিক্ষকদের অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের ৭০০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ: শিক্ষামন্ত্রী

বগুড়ায় ব্যবসায়ী খুন, স্ত্রী ও খালাতো ভাই গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক : / ১০৩ বার
আপডেট বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫

বগুড়ায় পরকীয়ার জেরে খালাতো ভাইয়ের হাতে খুন হয় বেকারি ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলাম (৪০)। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে নিহত জহুরুলের স্ত্রী শামীমা আক্তার (৩০) ও খালাতো ভাই বিপুলকে (৩৭) গ্রেফতার করে সদর থানা পুলিশ।

নিহত জহুরুল বগুড়া সদর উপজেলার নুনগোলা ইউনিয়নের হাজরাদিঘী তালুকদারপাড়ার এলাকার বাসিন্দা। এর আগে, ওইদিন সকালে জহুরুল ইসলামের লাশ ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন নিহত জহুরুলের স্ত্রী শামিমা আক্তার ও তার পরকীয়া প্রেমিক খালাতো ভাই বিপুল। পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে জহুরুলকে হত্যা করা হয়। বুধবার বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর এসব তথ্য জানান। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে লোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য।

জানা যায়, শৈশব থেকেই শামিমা আক্তার ও তার ফুফাতো ভাই বিপুলের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিপুলকে না পেলেও জহুরুলের সঙ্গে শামিমার বিয়ে হয়। বিপুল এবং জহুরুল একে অপরের খালাতো ভাই। কিন্তু বিয়ের পরেও শামিমা আর বিপুলের পরকীয়ার সম্পর্ক চলমান ছিল। এ নিয়ে দাম্পত্য জীবনে জহুরুলের সঙ্গে শামীমার বিরোধ তৈরি হয়। এই সম্পর্ককে চিরতরে সরিয়ে দিতেই শামিমা ও বিপুল স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, গত সোমবার রাতে স্ত্রী শামিমা আক্তার দুধের সঙ্গে প্রায় ১৫টি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন স্বামী জহুরুলকে। ওষুধ খেয়ে জহুরুল অচেতন হয়ে পড়লে শামিমা ফোন করেন প্রেমিক বিপুলকে। এরপর ঘুমন্ত জহুরুলকে বাসা থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয় বাড়ির পাশের একটি অর্ধনির্মিত বাড়িতে। সেখানে দেয়ালের সঙ্গে সজোরে আঘাত করে তার মাথায় গুরুতর জখম করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করতে ভাঙা টয়লেটের টাইলস দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ ফেলে রাখা হয় পাশের ধানক্ষেতে।

হত্যার পর শামিমা আক্তার নিজের অপরাধ ঢাকতে নাটকীয়তার আশ্রয় নেন। মঙ্গলবার সকালে স্বামীর লাশ উদ্ধারের পর তিনি নিজেই সাংবাদিকদের কাছে স্বামীর হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার দাবি করেন। তবে এই হত্যার ঘটনায় শামিমা আক্তারের বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করার পর পুলিশের নিবিড় তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সত্য। পুলিশ নিশ্চিত হয়, নিহত জহুরুলের স্ত্রী শামিমাই এই হত্যার নেপথ্যে ছিলেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর জানান, তদন্তের পর জানা যায় পরকীয়ার জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার সব তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেফতার শামিমা আক্তার ও বিপুলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরোও

Archive Calendar

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930