যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতার আভাস দিয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে উল্লেখযোগ্য হারে কর্মসংস্থান কমেছে। আজ শুক্রবার দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত মাসিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত মাসে অর্থনীতি থেকে ৯২,০০০ কর্মসংস্থান বিলুপ্ত হয়েছে, যা অর্থনীতিবিদদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি নেতিবাচক। এর ফলে বেকারত্বের হার বেড়ে ৪.৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে কর্মসংস্থান হ্রাসের পেছনে বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক কারণ ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ, যার প্রভাবে জ্বালানির দাম ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া নির্মাণ খাতে ১১,০০০ এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে ২৮,০০০ কর্মী ছাঁটাই হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া ও হাওয়াইয়ের কাইজার পারমানেন্টে-সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের ধর্মঘট এবং বৈরী আবহাওয়াও এই পরিস্থিতিকে ত্বরান্বিত করেছে।
২০২৫ সালের দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পর ২০২৬ সালে ঘুরে দাঁড়ানোর যে আশা করা হয়েছিল, ফেব্রুয়ারির এই তথ্য তাতে বড় ধাক্কা দিল। সরকারের সংশোধিত তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসের কর্মসংস্থানের চিত্রও আগের তুলনায় অনেকটা নিচে নামিয়ে আনা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুল্ক নীতি এবং উচ্চ সুদের হারের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবও নিয়োগদাতাদের মধ্যে নতুন কর্মী নেওয়ার ক্ষেত্রে অনীহা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
শ্রমবাজারের এই মন্দা খবরের পাশাপাশি আমেরিকানদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়। ইরানে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের মূল্য এক রাতেই গ্যালন প্রতি ৭ সেন্ট বেড়ে ৩.৩২ ডলারে পৌঁছেছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, যারা কর্মরতায় আছেন তাদের গড় মজুরি গত বছরের তুলনায় ৩.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা ধারণা করছেন, শ্রমবাজারের এই হঠাৎ পতন ফেডারেল রিজার্ভকে তাদের সুদ হারের নীতি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করতে পারে। বেকারত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজার চাঙা করতে সুদের হার কমানোর চাপ বাড়তে পারে।সামগ্রিকভাবে, ফেব্রুয়ারির এই জবস রিপোর্ট মার্কিন অর্থনীতির জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আগামী দিনগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি ও ভূ-রাজনৈতিক সংকটের মুখে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস।