মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে ইরান।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, তেহরান তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে এবং এখন তারা ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
তবে এই শান্তি প্রক্রিয়ায় ইরান ৫টি কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই শর্তগুলো পূরণ হলেই কেবল একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব।
ইরানের ৫ দফা শর্ত
১. হামলা ও হত্যাকাণ্ড বন্ধ: ইরানের ওপর সব ধরনের সামরিক হামলা এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে পরিচালিত ‘টার্গেটেড কিলিং’ বা হত্যাকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
২. যুদ্ধ বন্ধের গ্যারান্টি: ভবিষ্যতে আর কখনোই যুদ্ধ শুরু হবে না—যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের এমন শক্তিশালী আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা দিতে হবে।
৩. ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ: চলমান যুদ্ধে ইরানের যে পরিমাণ আর্থিক ও পরিকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে, তার পূর্ণ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।
৪. আঞ্চলিক শান্তি: কেবল নির্দিষ্ট কোনো স্থানে নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল জুড়ে চলমান সংঘাত ও উত্তেজনা বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে।
৫. হরমুজ প্রণালীতে সার্বভৌমত্ব: কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণকে তাদের “স্বাভাবিক ও আইনগত অধিকার” হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে হবে।
আলোচনাকে ‘প্রতারণা’ হিসেবে দেখছে তেহরান
একদিকে আলোচনার টেবিলে প্রস্তাব দিলেও, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছে ইরান। দেশটির দাবি, ওয়াশিংটনের এই আলোচনার আহ্বান আসলে একটি ‘কূটনৈতিক প্রতারণা’।
ইরানের অভিযোগ অনুযায়ী, এই আলোচনার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি প্রধান কৌশল রয়েছে:
তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ: যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম যেভাবে বাড়ছে, তা নিয়ন্ত্রণে রাখতেই যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার নাটক করছে।
হামলার প্রস্তুতি: ইরানের বিরুদ্ধে একটি বড় মাপের সামরিক আক্রমণের পরিকল্পনা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র মূলত সময়ক্ষেপণ করছে।
ইরানের এই পাল্টা জবাবের পর এখন বল হোয়াইট হাউসের কোর্টে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের এই ৫ শর্ত মেনে নেয় নাকি তাদের সামরিক প্রস্তুতির পথে হাঁটে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।